সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না : মির্জা ফখরুল শিশুর হাতে স্মার্টফোন : আশীর্বাদ না অভিশাপ? হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি টাঙ্গুয়ার হাওরে উজাড় হচ্ছে হিজল-করচ বাগ সাম্রাজ্যবাদী ও দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি “সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ” গুপ্ত ছিলাম, বাইরে যাইনি, ভবিষ্যতেও পালাবো না : জামায়াত আমির প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হলেন যাঁরা বিদ্যুতের দাম বাড়লো দুই বছরে নিঃস্ব হয়ে ফিরেছেন ২১৫ জন তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১৪৮৭ কোটি টাকা মা-বাবার পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ গণমাধ্যম, পুলিশ ও প্রবাসীদের উদ্যোগে অসহায় সাজু মিয়ার মুখে হাসি হাওরপাড়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস যাত্রী ওঠানো নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১২, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর ১০টি পৌরসভার পানি সরবরাহ লাইনে ত্রুটি, দুর্ভোগে ৬ শতাধিক গ্রাহক স্থানীয় সরকার নির্বাচন : আগস্টের শেষে তফসিল, অক্টোবরে ভোটের চিন্তা হাওরে কৃষকের নিরানন্দ ঈদ তোফায়েল আহমেদ আর নেই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা : এমপি কামরুল

সুষ্ঠু নির্বাচনই গণতান্ত্রিক উত্তরণের মূল ভিত্তি

  • আপলোড সময় : ১৩-১২-২০২৫ ১১:২৫:০৪ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৩-১২-২০২৫ ১১:২৫:০৪ অপরাহ্ন
সুষ্ঠু নির্বাচনই গণতান্ত্রিক উত্তরণের মূল ভিত্তি
সুনামগঞ্জে অনুষ্ঠিত ‘সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক উত্তরণ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকটি সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ এক নাগরিক উদ্যোগ। গণতন্ত্রের বর্তমান বাস্তবতায় যখন নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন, আস্থা ও উদ্বেগ - তখন এমন আলোচনা সমাজকে সচেতন করার পাশাপাশি রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের জন্যও একটি ¯পষ্ট বার্তা বহন করে। বৈঠকে বক্তারা যথার্থভাবেই বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন কোনো একদিনের আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি একটি দীর্ঘ, কাঠামোবদ্ধ ও দায়িত্বশীল প্রক্রিয়া। নির্বাচনের আগে, নির্বাচনকালীন এবং নির্বাচন-পরবর্তী - এই তিন পর্যায়েই স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা না গেলে গণতান্ত্রিক উত্তরণ সম্ভব নয়। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ছাড়া রাষ্ট্রে আইনের শাসন, মানবাধিকার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা কল্পনামাত্র। বিশেষ করে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে যে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে, তা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনকে অবশ্যই আইনি ভিত্তিতে, সাহসিকতা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারকে সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা বজায় রেখে কমিশনকে পূর্ণ সহযোগিতা দিতে হবে- এটি কেবল রাজনৈতিক অঙ্গীকারের বিষয় নয়, বরং গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখার পূর্বশর্ত। রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের ক্ষেত্রেও দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। নির্বাচনকে প্রতিপক্ষ দমনের হাতিয়ার না বানিয়ে প্রতিযোগিতামূলক ও শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়া হিসেবে গ্রহণ করা জরুরি। আচরণবিধি মেনে চলা, সহিংসতা ও প্রভাবমুক্ত প্রচারণা চালানো এবং ফলাফল মেনে নেওয়ার মানসিকতা গড়ে তোলাই সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিচায়ক। এই গোলটেবিল বৈঠকে নাগরিক সমাজের ভূমিকাকে যে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। গণতন্ত্র কেবল রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর প্রকৃত শক্তি নিহিত রয়েছে সচেতন নাগরিকদের মধ্যে। নাগরিক সমাজ যত শক্তিশালী, সংগঠিত ও দায়িত্বশীল হবে - গণতন্ত্র তত বেশি সুরক্ষিত থাকবে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক পরিসরে চর্চিত না হলে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে তার প্রতিফলন ঘটবে না। অতএব, এই বৈঠক থেকে উঠে আসা আহ্বান শুধু বক্তব্যেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। নির্বাচন কমিশন, সরকার, রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজ - সবার সম্মিলিত উদ্যোগেই কেবল সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক উত্তরণ সম্ভব। সময় এসেছে কথার বাইরে গিয়ে দায়িত্বশীল আচরণ ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্রকে বাস্তব অর্থে প্রতিষ্ঠা করার। সুষ্ঠু নির্বাচনই পারে রাষ্ট্রকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে - এ সত্য উপলব্ধি করাই আজ সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ও নাগরিক কর্তব্য।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স